চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস প্রতিনিধি
চট্টগ্রামে ভাঙারি ব্যবসায়ী আলী আজম থেকে তিন দফায় ৬৫ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়া ও আরো ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবীর মামলায় গ্রেপ্তারের ২৪ ঘন্টার মধ্যে জামিন ছাত্রদল নেতার ভাই মো. ওয়াহিদের। রোববার বিকেলে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আসামি ওয়াহিদের জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে শনিবার রাতে ওয়াহিদকে গ্রেপ্তার করে বন্দর থানা পুলিশ। আসামি ওয়াহিদ চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. সাইফুল আলমের ছোট।
বন্দর থানার ওসি মো. আব্দুর রহিম বলেন, আদালত থেকে চাঁদাবাজির ঘটনায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থানায় আসে। সেই পরোয়ানামূলে শনিবার রাতে ওয়াহিদকে নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তার রাজনৈতিক পরিচয় আমি জানি না। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ওয়াহিদ নিমতলা এলাকার হারুন সওদাগর ওরফে কমিশনার হারুনের ছেলে।
ভিকটিম মো. আলী আজম বলেন, নিমতলা বিশ^রোড এলাকায় শুধু আমি না, গত এক বছর ধরে তার হাতে শত শত ব্যবসায়ী চাঁদাবাজির শিকার হয়েছেন। কেউ চাঁদা না দিলেই তাকে মারধর করতেন। আমার থেকে তিন দফায় জোর করে ৬৫ হাজার টাকা চাঁদা নেয়। পরে ১ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় আমাকে অমানুষিক নির্যাতন করে। তার বাবা ও বড় ভাই ছাত্রদল নেতা সাইফুলের কাছে বিচার দিলেও বিচার পাইনি। তার বাবা মামলা করে দিয়ে বলেছিলেন। তাই ওয়াহিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করি। সেই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষ খুব খুশি হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলমের মোবাইলে ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেননি। আসামি ওয়াহিদের আইনজীবী মো. সেলিম উদ্দিন আদালতে দাবি করেন, আসামি ওয়াহিদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক আক্রোশবত মিথ্যা অভিযোগ করে মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ আসামির বিরুদ্ধে অন্যায় লাভে ব্যার্থ হয়ে আসামির বিরুদ্ধে মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। শুনানি শেষে আদালত ওয়াহিদের জামিন মঞ্জুর করেছেন।

পুলিশ সূত্র জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৭ মে মো. আলী আজম বাদী হয়ে চট্টগ্রাম চীফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ছাত্রদল নেতার ভাই মো. ওয়াহিদ ও মো. মাসুম দুই ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। দুই জনেই স্থানীয় নিমতল এলাকার বাসিন্দা। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, বাদী আলী আজম পেশায় ভাঙারি ব্যবসায়ী। তিনি ভ্যানে করে ভাঙারির জিনিসপত্র ক্রয় করেন। পরে তা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ২০২৫ সালের ৬ মার্চ সকাল আটটায় ভ্যানে করে স্ক্যাপ জিনিসপত্র ও কাগজ ক্রয় করে জসিমের ভাঙারির দোকানের সামনে গেলে দুই আসামিসহ অজ্ঞাত ৭/৮ জন আসামি বাদীকে কলার ধরে জসিমের দোকানের পিছনে আনসার ক্যাম্পের গেটের ভেতর নিয়ে গিয়ে মারধর করেন। ভাঙারি বিক্রির ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে ৯ মে সকাল সাতটার দিকে বাদী বাসা থেকে বের হয়ে জসিমের দোকানের সামনে আসলে ওয়াহিদসহ দুই আসামি তাকে কল দিলে কল ধরিস না কেন। এখানে যদি ভাঙারির ব্যবসা করত হয়ে তাহলে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হবে। বাদী কিসের টাকা জিজ্ঞাসাব করলে ওয়াহিদ রাস্তার পাশ থেকে একটি গাছের বাটাম নিয়ে বাদীর সরার শরীরে উপর্যুপরী মারধর করে মাটিতে ফেলে দেয়। মাসুম বাদীকে কিল ঘুষি মেরে বাদীর পকেট থেকে মোবাইল ও ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। বাদীর শোর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামিদের কবল থেকে রক্ষা পান। যাওয়ার সময় দুই দিন পর আবার আসবো টাকা রেডি রাখতে বলে হুমকি দিয়ে যান। অন্যথায় বাদীকে ভাঙারির ব্যবসা করতে দিবে না। বেশি বাড়াবাড়ি করলে প্রাণে খুন করে লাশ গুম করে ফেলা হবে বলে জানান। ১১ মার্চ বাদীর বাসায় রাত ৯টায় এসে মারধর করে ৪০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়।
Leave a Reply